বদরশাহ্ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইএসটি)-এর রূপকার ও অনুপ্রেরণার বাতিঘর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম-এর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, জাতীয় অবদান এবং দিকনির্দেশনামূলক দর্শন।
Chairman, BIST & Former Member Director (Irrigation), BADC
প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম বদরশাহ্ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইএসটি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির মাননীয় চেয়ারম্যান। তিনি একাধারে একজন প্রথিতযশা প্রকৌশলী, জাতীয় কৃষি বিপ্লবের দক্ষ রূপকার, সফল পিতা ও সমাজহিতৈষী লেখক।
সন্দ্বীপের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিদক্ষ করে গড়ে তুলতে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বদরশাহ্ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠানটি তিলে তিলে গড়ে ওঠে।
প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম ১৯৩৮ সালের ১ জুলাই সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী সাতঘরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা মুন্সি সৈয়দ আহমদ এবং মাতা ফওজিয়া বেগম। শৈশবে চরম প্রতিকূলতা ও দ্বীপাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে তিনি মেধা, কঠোর সাধনা ও আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হন।
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ব্রিটেনের বিশ্বখ্যাত সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাঁর মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছিল:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (BADC) প্রকৌশল ও সেচ বিভাগে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং যান্ত্রিক কৃষিব্যবস্থার প্রসারে তিনি দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব প্রদান করেন। সততা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি টানা ৫ বছর বিএডিসি-র সদস্য পরিচালক (সেচ) / Member Director (Irrigation) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের কৃষিজমিতে আধুনিক ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিভাগ সেচব্যবস্থা বাস্তবায়ন।
কৃষক পর্যায়ে পাওয়ার পাম্প ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সফল প্রচলন ও প্রযুক্তিগত তদারকি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিএডিসি-র নীতি নির্ধারণ ও মেগা সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনন্য ভূমিকা।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের কঠিন কাঠামোর মাঝেও তিনি লালন করেছেন এক মননশীল সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক সত্তা। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক সমৃদ্ধ দলিল:
এই গ্রন্থে তিনি তাঁর শৈশবের সন্দ্বীপ, প্রকৌশল জীবনের কঠিন সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে বিএডিসি-র নানামুখী অভিযান এবং সমাজ ও নীতিবোধের গভীর উপলব্ধি প্রাঞ্জল ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সহধর্মিণী আয়েশা বেগম-এর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি পাঁচ জন উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত কন্যাসন্তানের গর্বিত জনক—যাঁদের মধ্যে দুইজন স্বনামধন্য চিকিৎসক (Doctor), একজন প্রকৌশলী (Engineer) এবং দুইজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তাঁর এই সন্তান লালন-পালন ও উচ্চশিক্ষার আদর্শ সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অবসরের পর ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে তিনি তাঁর জন্মভূমি সন্দ্বীপের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠা করেন বদরশাহ্ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (BASOWEF)। এই ফাউন্ডেশনের অধীনেই গড়ে তোলা হয়েছে বদরশাহ্ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইএসটি)।
Mahbubul Mowla
নির্বাহী পরিচালক"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেবলমাত্র সনাতন সাধারণ শিক্ষায় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উপকূলীয় দ্বীপ সүндөীপের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় (TVET) দক্ষ করাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-এর অনুমোদিত আধুনিক কারিকুলাম ও আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মসংস্থানমুখী দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।"
"আমাদের চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের (NSDA) আওতাধীন বিভিন্ন মেয়াদের সিবিটিঅ্যান্ডএ শর্ট কোর্সগুলো দেশ-বিদেশের শ্রমবাজার ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের দুয়ার উন্মোচন করছে। আমি সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আহ্বান জানাই প্রযুক্তির এই সুযোগ গ্রহণ করে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করার।"
মাহবুবুল মওলা (নির্বাহী পরিচালক)